- Get link
- X
- Other Apps
বিশেষ পোস্ট
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| ইচ্ছেমত বিস্কুট খেয়ে শরীরের ক্ষতি করছেন না তো? |
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চা-কফির সাথে একটি জনপ্রিয় নাস্তা হলো বিস্কুট। সকালের নাস্তায়, বিকেলের নাস্তায় অথবা খিদে লাগলে হালকা খাবার হিসেবে বিস্কুট প্রায় সব বাড়িতেই সহজলভ্য। স্বাদে ভালো এবং সহজে পাওয়া যায় বলে অনেকেই প্রতিদিন, এমনকি দিনে কয়েকবার বিস্কুট খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য বেশ কিছু ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিয়মিত বিস্কুট খেলে শরীরে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদরোগ এবং হজম প্রক্রিয়ার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এখানে প্রতিদিন বিস্কুট খাওয়ার ক্ষতিকর দিকগুলো আলোচনা করা হলো।
ওজন বৃদ্ধি : প্রতিদিন বিস্কুট খাওয়া মানে প্রতিদিন শরীরে ২০০-৩০০ ক্যালরি বাড়তি গ্রহণ করা। সাধারণত একটা বিস্কুটে ৪০-৬০ ক্যালরি থাকে। বিস্কুটের ধরন, আকার ও উপাদানের ভিত্তিতে ক্যালরির পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। এই খাবার খেলে পেট ভরে না, কারণ এতে প্রোটিন আর ফাইবার একদমই নেই। কিছুক্ষণ পর আবার খিদে লাগে। বিস্কুটের চিনি আর ময়দা শরীরে গিয়ে ইনসুলিন বাড়ায়। ইনসুলিন এই বাড়তি ক্যালরিকে চর্বি হিসেবে পেট আর কোমরে জমিয়ে রাখে। এভাবে মাসে ১ কেজি করে বাড়তে বাড়তে এক বছরে ১০-১২ কেজি ওজন বেড়ে যায়। সবচেয়ে খারাপ হলো পেটের ভিসেরাল ফ্যাট। এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
ডায়াবেটিস: বিস্কুটে পরিশোধিত ময়দা ও চিনি ভরপুর থাকে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেশি। খাওয়ার অল্পক্ষণেই রক্তে সুগার হু হু করে বেড়ে যায়। তখন প্যানক্রিয়াসকে জোর করে অনেক ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। প্রতিদিন এমন হলে একসময় শরীরের কোষগুলি ইনসুলিনের কথা শোনা বন্ধ করে দেয়। একে বলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। এরপর আসে প্রি-ডায়াবেটিস, তারপর টাইপ ২ ডায়াবেটিস।
হজমের সমস্যা: পরিশোধিত ময়দা দিয়ে তৈরি করা বিস্কুটে ফাইবার থাকে না বললেই চলে। বিস্কুটের মতো ফাইবার শূন্য খাবার নিয়মিত গ্রহণে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা সৃষ্টি করে। ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাবার হলো ফাইবার, সেটা না পেয়ে পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো মরে যায় এবং খারাপ ব্যাকটেরিয়া বাড়তে থাকে। এছাড়া বিস্কুটের প্রিজারভেটিভ ও আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার পেটের দেয়ালকে লিক করতে পারে।
হৃদরোগ: বিস্কুট দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা ট্রান্স ফ্যাট ব্যবহার করা হয়। ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমিয়ে দেয়। এর ফলে রক্তনালিতে চর্বি জমে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ৩৫ বছর বয়সের পর প্রতিদিন বিস্কুট খাওয়ার মানে হলো হার্টের ওপর প্রতিদিন চাপ দেয়া।
ফ্যাটি লিভার: বিস্কুটে থাকা চিনির ৫০% হলো ফ্রুক্টোজ। এই ফ্রুক্টোজ ভাঙার কাজটা শুধু লিভারই করে। প্রতিদিন বেশি ফ্রুক্টোজ গেলে লিভার সেটাকে চর্বিতে পরিণত করে জমিয়ে রাখে। একে বলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। শুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না। কিন্তু ৫-১০ বছর পর এটা থেকে লিভারের প্রদাহ, তারপর সিরোসিসও হতে পারে।
দাঁত ও ত্বকের ক্ষতি: বিস্কুটের গুঁড়া দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে। মুখের ব্যাকটেরিয়া এই চিনি খেয়ে অ্যাসিত বানায়। সেই অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ক্যাভিটি তৈরি করে। বেশি বিস্কুট খেলে ত্বকে গ্লাইকেশন হয়। অর্থাৎ বিস্কুটের চিনি কোলাজেনের সাথে লেগে ত্বককে শক্ত ও ভঙ্গুর করে দেয়। ফলে অল্প বয়সেই ত্বকে বলিরেখা ও ঝুলে পড়ে। ট্রান্স ফ্যাটের কারণে শরীরে প্রদাহ বাড়ে, তাই একজিমা আর অ্যালার্জিও বাড়ে।
পুষ্টির ঘাটতি: বিস্কুট হলো এম্পটি ক্যালরি জাতীয় খাবার। অর্থাৎ এতে ক্যালরি থাকলেও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও প্রোটিনের পরিমাণ নগণ্য। বিস্কুট খেলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে আসে। এটা দীর্ঘমেয়াদে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে। এর ফলে শরীরে আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়, ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় দুর্বল হয়, বি ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে আর সারাদিন ক্লান্তি লাগে। এছাড়াও অন্যান্য পুষ্টির অভাব জনিত উপসর্গ দেখা যেতে পারে।
আসক্তি: বিস্কুটে থাকা চিনি, লবণ ও চর্বির সংমিশ্রণ মস্তিষ্কের পুরস্কার কেন্দ্রকে প্রবলভাবে সক্রিয় করে তোলে। যা বারবার এই ধরনের খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতে পারে। এই কারণে অনেকের পক্ষে পরিমিত পরিমাণে বিস্কুট খেয়ে থামা কঠিন হয়ে পড়ে, যা অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়।
শক্তির মাত্রা ওঠানামা: বিস্কুট খাওয়ার পরপরই রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়, যা সাময়িকভাবে শক্তি বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যায়। এর ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও পুনরায় ক্ষুধা অনুভূত হয়। এই চক্র ঘন ঘন মিষ্টি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে।
সব বিস্কুট কি সমান ক্ষতিকর?
না, সব বিস্কুট সমান ক্ষতিকর নয়। বিস্কুটের ধরন অনুযায়ী ক্ষতির মাত্রা ভিন্ন হয়।
বেশি ক্ষতিকর:
ক্রিম বিস্কুট > বেশি চিনি ও চর্বিযুক্ত ক্রিম ফিলিং থাকে।
চকলেট কোটেড বিস্কুট > অতিরিক্ত চিনি ও ফ্যাটের কারণে ক্যালরি বেশি।
কুকিজ > মাখন, তেল ও চিনির পরিমাণ বেশি।
মাঝারি ক্ষতিকর:
টি বিস্কুট > তুলনামূলক কম চিনিযুক্ত, তবে এতেও পরিশোধিত ময়দা থাকে- যেখানে ফাইবার প্রায় নেই।
সল্টেড ক্র্যাকার > চিনি কম হলেও লবণের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।
কম ক্ষতিকর:
হোল হুইট, মাল্টিগ্রেইন বিস্কুট > লেবেলে হোল গ্রেইন লেখা থাকলে সাধারণ বিস্কুটের চেয়ে বেশি ফাইবার থাকে, যা হজমে সহায়ক।
ওটস বিস্কুট > কিছুটা বেশি ফাইবার ও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকতে পারে।
সতর্কতা: লেবেলে হোল হুইট বা মাল্টিগ্রেইন লেখা থাকলেই সেটা পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর - এমন ধরে নেয়া ঠিক নয়। অনেক ব্র্যান্ড এই লেবেল ব্যবহার করে বিপণনের সুবিধার্থে। কিন্তু আসলে তাতেও বেশি চিনি বা তেল থাকতে পারে।
বিস্কুটের স্বাস্থ্যকর বিকল্প
বিস্কুট সম্পূর্ণ বাদ দেয়া বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসক্তি কমানোর চেষ্টা করতে হবে। নিচের বিকল্পগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে-
> সিদ্ধ ডিম
> ঘরে তৈরি ওটস বা বাদাম ভিত্তিক হালকা নাস্তা
> ভেজানো বাদাম বা ছোলা
> তাজা মৌসুমী ফল
> শুকনো ফল (খেজুর, কিশমিশ)
> মুড়ি, চিড়া বা ছাতু
> ঘরে তৈরি করা বিস্কুট।
Disclaimer: এখানে উল্লেখিত তথ্যাবলি কেবল সাধারণ জ্ঞান ও সচেতনতার জন্য। এটা ডাক্তারি পরামর্শের বিকল্প নয়।
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment