- Get link
- X
- Other Apps
বিশেষ পোস্ট
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| গাজর - একটি রোগ প্রতিরোধক খাবার |
শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বাড়াতে সুষম, পুষ্টিকর এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। সঠিক খাবার শিশুর শরীরকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি যোগায়। তাদের ৮০ শতাংশ ইমিউনিটি আসে খাবার থেকে। শিশু জন্মের প্রথম মুহূর্ত থেকেই রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune System) কাজ করা শুরু করে। ৭ থেকে ৮ বছর বয়সে গিয়ে তাদের ইমিউন সিস্টেম পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী হয়। এই সময়ের মধ্যে তাদেরকে অসংখ্য জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। এই সময় তারা ভালো খাবার না পেলে বারবার অসুস্থ হয়ে যায়, গ্রোথ কমে যায়। তাই তাদের খাদ্যতালিকায় রোগপ্রতিরোধ বর্ধক খাবার নিশ্চিত করতে হবে। এখানে শিশুর ইমিউনিটি বাড়াতে পারে এমন কিছু সুপারফুডস উল্লেখ করা হলো।
গাজর: গাজরকে ভিটামিন এ এর রাজা বলতে পারেন। এর মূল পুষ্টি হলো- ভিটামিন এ, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম এবং ফাইবার। আপনার বাচ্চাকে গাজর খাওয়ালে চোখের জ্যোতি বাড়বে, রাতকানা রোগ প্রতিরোধ হবে এবং ত্বক ও ফুসফুসের মিউকাস লাইনিং মজবুত হবে।
গাজর লম্বা করে কেটে ৮-১০ মিনিট ভাপে সেদ্ধ করুন। একদম নরম হবে, কিন্তু গলে যাবে না। এক বছরের আগে কাঁচা গাজর দেবেন না। গলায় আটকে যেতে পারে।
মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলু হলো ঠান্ডার শত্রু। এর মূল পুষ্টি হলো- ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, ফাইবার এবং কমপ্লেক্স কার্ব। আপনার শিশুকে মিষ্টি আলু খাওয়ালে শরীর গরম থাকবে, শীতে সর্দি-কাশি কম হবে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে এবং দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকবে।
মিষ্টি আলু খোসাসহ সেদ্ধ করুন। খোসা ছাড়িয়ে এক চামচ ঘি + এক চিমটি জিরা গুঁড়া মেশান। ঘি দিলে ভিটামিন এ শোষণ পাঁচগুণ বাড়ে। আলাদা করে চিনি দিবেন না। মিষ্টি আলু নিজেই যথেষ্ট মিষ্টি।
জাম ফল: পুষ্টিগুণে ঠাসা জাম ফল যেন প্রকৃতির এক অনন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বম্ব! এর মূল পুষ্টি হলো- ভিটামিন সি, আয়রন, অ্যান্থোসায়ানিন এবং ক্যালসিয়াম। শিশুকে জাম খাওয়ালে রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়ে, রক্তশূন্যতা দূর হয়, মুখের ঘা ও সংক্রমণ সারে এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়ে।
৫-৬টা জাম, অর্ধেক কলা এবং ২ টেবিল চামচ টকদই ব্লেন্ড করুন। বিচি অবশ্যই ফেলে দিবেন। জাম খেলে জিহ্বা কালো হয়ে যায়- এটা স্বাভাবিক। খালি পেটে খাওয়াবেন না, গ্যাস হতে পারে।
টকদই: এটি পেটের ঢাল হিসেবে কাজ করে। এর মূল পুষ্টি হলো- প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি১২। এতে প্রচুর প্রোবায়োটিক থাকে। আপনার বাচ্চাকে টকদই খাওয়ালে পেটের ৭০ শতাংশ ইমিউন সেল সক্রিয় হবে, ডায়রিয়া ও অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমবে এবং হাড় ও দাঁত শক্ত হবে।
চিনি ছাড়া টকদই + কলা কুচি + ২টা খেজুর কুচি। মিষ্টির জন্য মধু দিতে পারেন, তবে এক বছরের আগে না। ফ্লেভার্ড দই কিনবেন না, কারণ প্রচুর চিনি থাকে।
ডিম: ডিমকে প্রোটিনের ফ্যাক্টরি বলতে পারেন। এর মূল পুষ্টি হলো- প্রোটিন, ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, কোলিন এবং ভিটামিন বি১২। শিশুকে ডিম খাওয়ালে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে- যা রোগের সঙ্গে লড়াই করে, মস্তিষ্কের বিকাশসাধন হবে এবং হাড় মজবুত হবে।
এক চামচ ঘি দিয়ে হালকা ভেজে নিন। কাঁচা বা আধা সেদ্ধ খাওয়াবেন না। প্রথমবার অল্প করে দিয়ে ৩ দিন পর্যবেক্ষণ করুন অ্যালার্জি আছে কিনা।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: আপনার শিশুকে কমলা, পেয়ারা ও আমড়ার মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়াতে হবে। এর ফলে শ্বেত রক্তকণিকা বাড়বে, সংক্রমণ দ্রুত সারবে এবং আয়রন শোষণ বাড়বে। এটা জামের সাথে খাওয়ালে বেস্ট। কেবল রস না খাইয়ে আস্ত ফল দিন। এতে ফাইবার পাবে।
মুগডাল + ভাত + ঘি: একসাথে মুগডাল, ভাত এবং ঘি হলো কমপ্লিট পাওয়ার মিল। এসবের মূল পুষ্টি হলো- প্রোটিন, কমপ্লেক্স কার্ব এবং হেলদি ফ্যাট। এসব খাবার কেবল ইমিউনিটি না, পুরো শরীরের গ্রোথের জন্য দরকার। এই খাদ্য সমন্বয় শিশুকে দিলে হজম বাড়বে, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং মস্তিষ্কের বিকাশসাধন হবে।
এক মুঠ মুগডাল + আধ কাপ চাল রান্না করে নামানোর পর এক চামচ ঘি মিশিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।
Disclaimer: এখানে প্রদত্ত তথ্য কেবল সচেতনতার জন্য, চিকিৎসা নয়। কোনো সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment