- Get link
- X
- Other Apps
বিশেষ পোস্ট
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| ছত্রাক দমনে রসুনের পেস্ট কার্যকরী |
বর্ষাকালে চারপাশের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, কাদা-পানি, নোংরা পানি এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ছত্রাক সংক্রমণ (Fungal Infection) খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এই মৌসুমের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ছত্রাকের স্বর্গরাজ্য। বিশেষ করে এই সময় আমাদের পা দুটি সবচেয়ে বেশি ভুগে থাকে।
বৃষ্টিতে জুতা-মোজা ভিজে যাওয়ার পর তা দীর্ঘক্ষণ পায়ে দিয়ে রাখা, রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানি পায়ে লাগা, কর্মস্থল-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসে সঠিক নিয়মে পা পরিষ্কার না করা এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকার কারণে বর্ষায় পা সহজেই ছত্রাক সংক্রমণের শিকার হয়।
শুরুতে সামান্য চুলকানি। আঙুলের ফাঁকে একটু লালচে ভাব। কিন্তু অবহেলা করলে এটাই ধীরে ধীরে চামড়া ফেটে যাওয়া, দুর্গন্ধ, জ্বালাপোড়া এবং এমনকি নখ পর্যন্ত নষ্ট করে দেয়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, এটা একবার হলে বারবার ফিরে আসে।
পায়ে ছত্রাক সংক্রমণের লক্ষণ
ছত্রাক সাধারণত পায়ের আঙুলের মধ্যবর্তী নরম চামড়ায় আক্রমণ করে। এর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
° আঙুলের ফাঁকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া
° চামড়া সাদা হয়ে ফেটে যাওয়া ও খোসা ওঠা
° পায়ে বাজে দুর্গন্ধ
° লালচে ফুসকুড়ি ও পানিভর্তি ফোসকা
° নখ মোটা, হলুদ ও ভঙ্গুর হওয়া।
পায়ের ছত্রাক সংক্রমণ সারানোর উপায়
সংক্রমণ নিয়ে ডাক্তারের কাছে দৌঁড়ানোর আগে হাতের কাছের জিনিস দিয়েই সারানো সম্ভব হতে পারে। এখানে পায়ের ছত্রাক দূর করার কিছু কার্যকরী ঘরোয়া টোটকা উল্লেখ করা হলো।
পা শুকনো রাখা: নোংরা পানি থেকে ঘরে ফেরার পর লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক সাবান দিয়ে পা খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। ধোয়ার পর শুকনো ও নরম তোয়ালে দিয়ে আঙুলের ভেতরের অংশগুলো চেপে চেপে শুকিয়ে নিন। পা ভেজা রেখে কখনো জুতা বা মোজা পরবেন না।
ভিনেগার মিশ্রিত পানি: হালকা গরম পানিতে এক চা চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে তাতে ১৫-২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। ভিনেগারের অ্যাসিডিক উপাদান ছত্রাক ধ্বংস করতে পারে। এই মিশ্রণ থেকে পা তোলার পর অবশ্যই ভালো করে মুছে শুকিয়ে নেবেন।
টি ট্রি অয়েল ও নারকেল তেল: টি ট্রি অয়েলে শক্তিশালী ছত্রাকনাশক উপাদান রয়েছে। দুই চামচ নারকেল তেলের সাথে ৪-৫ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে আক্রান্ত স্থানে দিনে দুবার লাগান।
নিম ও হলুদের পেস্ট: কাঁচা হলুদ ও নিম পাতা একসঙ্গে বেটে পেস্ট তৈরি করে সংক্রমণের জায়গায় লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদান জীবাণুনাশক হিসেবে দারুণ কাজ করে।
লবণ-পানি: লবণ-পানি পায়ের গভীরের ছত্রাক সরাসরি ধ্বংস করতে পারে না, তবে এটি ছত্রাকের বৃদ্ধি থামাতে এবং অস্বস্তি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে কাজ করে। একটি গামলায় পায়ের পাতা ডুবে এমন পরিমাণ হালকা গরম পানি নিয়ে আধ কাপ সাধারণ খাবার লবণ বা এপসম সল্ট মেশান। এতে ১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
রসুনের পেস্ট: রসুনের অ্যালিসিন নামক সক্রিয় উপাদান ছত্রাক দমনে বেশ কার্যকর। ৩-৪ কোয়া রসুন থেঁতলে বা পেস্ট করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। অথবা রসুনের রসের সাথে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। ত্বকে তীব্র জ্বালাপোড়া হলে দ্রুত ধুয়ে ফেলুন।
বেকিং সোডা: বেকিং সোডা পায়ের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও ঘাম শুষে নেয়, যা ছত্রাকের বেঁচে থাকার পরিবেশ নষ্ট করে। এটি পায়ের দুর্গন্ধও দূর করে। বেকিং সোডার সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এটি আঙুলের ফাঁকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া রাতে জুতার ভেতর সামান্য শুকনো বেকিং সোডা ছিটিয়ে সকালে ঝেড়ে ফেলুন।
যখন ডাক্তার দেখাবেন
ঘরোয়া টোটকা ২-৪ সপ্তাহ ট্রাই করার পরও সংক্রমণ দূর না হলে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে (যেমন- লালচে ভাব পায়ের উপরের দিকে ওঠে যাওয়া, পুঁজ-ফোঁড়া ও হলুদ ক্রাস্ট দেখা, পা ফুলে যাওয়া), ডায়াবেটিস থাকলে, নখে ছত্রাক ধরলে, প্রচুর চুলকানির জন্য ঘুমাতে না পারলে এবং চামড়া ছিলে রক্ত বের হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস থাকলে পায়ে সামান্য চুলকানি বা ক্ষত দেখা দিলেই কোনো ঘরোয়া চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা না করে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে সেলুলাইটিসের মতো মারাত্মক ত্বকের সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।
ডিসক্লেইমার: এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধু সচেতনতার জন্য। ত্বকের যেকোনো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো।
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment