- Get link
- X
- Other Apps
বিশেষ পোস্ট
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| ঘন ঘন পিপাসা - ডায়াবেটিসের একটি সাধারণ উপসর্গ |
ডায়াবেটিসকে নীরব ঘাতক বলা হয়। কারণ প্রথমদিকে এর উপসর্গগুলি খুব সাধারণ মনে হয়। আমরা কাজের চাপে সেগুলো এড়িয়ে যাই। তাই আমরা অনেকেই বুঝতেই পারি না যে শরীরের ভেতরে সুগার বাড়তেছে।
ডায়াবেটিস হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় ব্যাধি। এই রোগে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন হরমোন তৈরি করতে পারে না, অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়। তখন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে চোখ, কিডনি, হার্ট ও স্নায়ুকে ধ্বংস করে দেয়। তাই নিজের সুরক্ষায় প্রত্যেকেরই এই রোগের সাধারণ উপসর্গগুলি সম্পর্কে জানা থাকা প্রয়োজন। এখানে ডায়াবেটিসের ৯টি সাধারণ উপসর্গ আলোচিত হলো।
১। ঘনঘন প্রস্রাব: এটা ডায়াবেটিসের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ। রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনি অতিরিক্ত সুগার প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে চায়। রক্তে সুগার ১৮০ mg/dL এর বেশি হলে কিডনি অতিরিক্ত সুগার ধরে রাখতে পারে না। এজন্য বারবার প্রস্রাবের চাপ আসে, বিশেষ করে রাতে এই সমস্যা বেড়ে যায়। রাতে ঘুম থেকে ২-৩ বার উঠতে হলে সেটা ডায়াবেটিসের সংকেত হতে পারে।
২। অতিরিক্ত পিপাসা: ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণে শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণের জন্য শরীর মস্তিষ্ককে বারবার পিপাসার সংকেত পাঠায়। ফলে প্রচুর পানি পান করার পরও বারবার গলা শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়। অনেকে ভাবে গরমের জন্য এমন হচ্ছে। কিন্তু এটা হলো ডায়াবেটিসের ২য় বড় উপসর্গ।
৩। অতিরিক্ত ক্ষুধা: পেট ভরে খাওয়ার এক ঘন্টা পর আবারও ক্ষুধা লাগে? তাহলে এটা ডায়াবেটিসের সংকেত হতে পারে। ডায়াবেটিসে শরীর খাবার থেকে গ্লুকোজ নিয়ে কোষের ভিতর ঢুকাতে পারে না। ফলে কোষগুলি না খেয়ে থাকে আর মস্তিষ্কে 'আরো খাবার চাই' সংকেত পাঠায়।
৪। ক্লান্তি ও দুর্বলতা: আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের জ্বালানি হলো গ্লুকোজ। ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে খাবারের গ্লুকোজ শরীরের কোষগুলিতে শক্তি হিসেবে পৌঁছাতে পারে না। ফলে কোষগুলি শক্তির ঘাটতিতে ভুগে। পর্যাপ্ত খাওয়ার পরও শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না বলে সবসময় চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হয়।
৫। কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস: পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খাওয়া সত্ত্বেও ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া ডায়াবেটিসের অন্যতম উপসর্গ, বিশেষ করে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। শরীর যখন গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না, তখন শক্তির জন্য পেশি আর চর্বি ভাঙতে শুরু করে। এর ফলে দ্রুত ওজন কমে যায়।
৬। ঝাপসা দেখা: রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তা চোখের লেন্স থেকে তরল শুষে নেয়, যার ফলে লেন্সের আকার সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে বা ফুলে যেতে পারে। একারণে চোখের ফোকাস করার ক্ষমতা কমে যায় এবং রোগী ঝাপসা দেখতে শুরু করে। সাধারণত রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে আসলে সমস্যাটি আবার ঠিক হয়ে যায়।
৭। ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া: রান্না করতে গিয়ে আঙুল কেটে গেছে- দুই সপ্তাহেও শুকাচ্ছে না? পায়ে ছোট দানা থেকে ঘা হয়ে যাচ্ছে? দুই কারণে এমনটা হয়ে থাকে। প্রথমত, অতিরিক্ত সুগার রক্তের সাদা রক্তকণিকাকে দুর্বল করে দেয়- ফলে সংক্রমণের সাথে লড়তে পারে না। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত সুগার রক্তনালী ও স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে- এতে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয় বলে ক্ষতস্থানে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে ক্ষত শুকাতে দীর্ঘসময় লাগে।
৮। হাত-পা ঝিনঝিন করা: হাতের তালু বা পায়ের পাতা জ্বালাপোড়া করে? ঝিনঝিন করে? মনে হয় পিঁপড়া হাঁটছে? কলম ধরতে সমস্যা হয়? এমনটা হলে ডায়াবেটিস টেস্ট করতে দেরি করবেন না। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে সুগার অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা শরীরের প্রান্তীয় স্নায়ুগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটাকে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি বলা হয়।
৯। ঘন ঘন সংক্রমণ: বার বার মাড়ির সংক্রমণ, প্রস্রাবের সংক্রমণ, ছত্রাক সংক্রমণ ও ত্বকে ফোঁড়া হচ্ছে? এমনটা হলে ডায়াবেটিস টেস্ট করতে ভুলবেন না। রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এর ফলে মাড়ি, প্রস্রাবনালী, যোনিপথ ও ত্বকে বারবার সংক্রমণ দেখা দেয়।
উপরের ১-২ টা উপসর্গ মিললেই যে অবধারিতভাবে ডায়াবেটিস হয়ে গেছে তা না। তবে ৩-৪ টা মিলে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ঝুঁকিমুক্ত থাকতে একটি উপসর্গও অবহেলা করা উচিত নয়।
ডিসক্লেইমার: এখানে উল্লেখিত তথ্যাবলি কেবলমাত্র সচেতনতার জন্য। এটা ডাক্তারি পরামর্শের বিকল্প নয়। শরীরে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

Comments
Post a Comment