বিশেষ পোস্ট

কাপড়ের দাগ দূর করার ১০ উপায়

sada vinegar meshano pani kaporer dag durikoron bangla
দাগের ধরন বুঝে সঠিক উপকরণ ব্যবহারে কাপড়ের দাগ দূর হয়

কাপড়ে দাগ লাগা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তরকারির ঝোল পড়ে, চা-কফি ছিটকে পড়ে, তেল-মসলা লেগে, শরীর ঘর্মাক্ত হয়ে বা কলমের কালি লেগে প্রিয় পোশাকে দাগ পড়তে পারে। দাগ পড়ার পর অনেকেই জোরে ঘষেন বা অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট ব্যবহার করেন। এতে দাগ না উঠে বরং কাপড়ের রং ও তন্তু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই দাগের ধরন বুঝে সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে ভালো।

সঠিক উপায় জানা থাকলে ঘরে থাকা লবণ, ভিনেগার ও বেকিং সোডার মতো সাধারণ জিনিস দিয়েই ৯০% দাগ তোলা সম্ভব। এই লেখায় আমরা কাপড়ের ধরন বুঝে, দাগের ধরন বুঝে সবচেয়ে কার্যকরী ১০টি ঘরোয়া উপায় আলোচনা করবো। কোন দাগে গরম পানি, কোন দাগে ঠাণ্ডা পানি, কোন কাপড়ে কি ব্যবহার করা যাবে- সব ধাপে ধাপে দেয়া হবে।

দাগ তোলার আগে কিছু সাধারণ নিয়ম

কাপড়ে দাগ লাগার সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে হবে। দাগ শুকিয়ে গেলে তোলা কঠিন হয়ে যায়। কাপড়টি জোরে ঘষবেন না, এতে দাগ আরও ছড়িয়ে যায়। টিস্যু বা নরম কাপড় দিয়ে হালকা চেপে দাগটি শুষে নিন। কাপড়ের যত্ন নেয়ার নির্দেশিকা (Care Tag) অবশ্যই দেখে নিন। দাগের উপর কখনো গরম পানি বা ইস্ত্রি ব্যবহার করবেন না, বিশেষত প্রোটিন জাতীয় দাগে (রক্ত, ডিম, দুধ) গরম তাপে দাগ স্থায়ী হয়ে যায়। নতুন কোনো পরিষ্কারক উপকরণ ব্যবহারের আগে কাপড়ের ভেতরের দিকে বা অদৃশ্য অংশে পরীক্ষা করে নিন। অনেক রাসায়নিক পরিষ্কারক একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করবেন না। দাগের চারপাশ থেকে কেন্দ্রের দিকে পরিষ্কার করুন, যাতে দাগ ছড়িয়ে না পড়ে। 

দাগ তোলার ঘরোয়া উপায়: দুর্ঘটনাবশত কাপড়ে দাগ হয়ে গেলে দুশ্চিন্তা না করে এখানে আলোচিত ঘরোয়া উপায়গুলির মধ্যে কোনটি প্রযোজ্য তা জেনে দাগ দূর করার চেষ্টা করতে পারেন। আশা করা যায়, প্রিয় পোশাকটি ফেলে দিতে হবে না।

১। তেল-চর্বির দাগ:  রান্নার তেল, মাখন বা গ্রিজের দাগের ক্ষেত্রে দাগের ওপর সরাসরি ডিশওয়াশিং লিকুইড বা বেকিং সোডা লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। ডিশওয়াশিং লিকুইড তেল ভাঙতে বিশেষভাবে কার্যকর।

২। চা ও কফির দাগ: দাগের উপর ঠান্ডা পানি ঢেলে প্রথমে ধুয়ে নিন। তারপর সাদা ভিনেগার ও পানির মিশ্রণ (সমান পরিমাণ) দাগে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। জেদি দাগের জন্য বেকিং সোডা পেস্ট ব্যবহার করা যায়। 

৩। রক্তের দাগ: রক্তের দাগে কখনোই গরম পানি ব্যবহার করবেন না। এতে দাগ স্থায়ী হয়ে যায়। দাগের ওপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সামান্য লবণ পানিতে মিশিয়ে ঘষুন। শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহার করা যেতে পারে। 

৪। ঘামের দাগ: জামার বগলের কাছে ঘামের হলদেটে দাগের জন্য বেকিং সোডা ও পানির পেস্ট বানিয়ে দাগে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া সাদা ভিনেগার ভেজানো কাপড় দিয়ে দাগ মুছেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

৫। কালির দাগ: জামায় কলমের দাগ লাগলে দাগের নিচে একটি পুরনো কাপড় বা টিস্যু রেখে দাগের ওপর রাবিং অ্যালকোহল বা স্যানিটাইজার তুলো দিয়ে চেপে চেপে লাগান। দাগ কাপড় থেকে নিচের কাপড়ে চলে যাবে। এরপর স্বাভাবিকভাবে ধুয়ে ফেলুন। 

৬। হলুদের দাগ: হলুদের দাগ বেশ জেদি। দাগে গ্লিসারিন লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তারপর ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রোদে শুকাতে দিলে হলুদের দাগ অনেকটা হালকা হয়ে যায়, কারণ সূর্যের আলো প্রাকৃতিক ব্লিচের মতো কাজ করে। 

৭। কাদার দাগ: কাদা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর শক্ত ব্রাশ দিয়ে শুকনো কাদা ঝেড়ে ফেলুন। এরপর সাধারণ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভেজা অবস্থায় ঘষলে দাগ কাপড়ের ভিতরে আরো ঢুকে যায়। 

৮। মেকআপের দাগ: লিপস্টিক বা তেলযুক্ত মেকআপের দাগের উপর সামান্য রাবিং অ্যালকোহল বা শেভিং ক্রিম লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে হাত দিয়ে হালকা ঘষুন। তারপর ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৯। মিষ্টি পানীয়ের দাগ: ফলের রস বা মিষ্টি পানীয় দাগের নিচে কাপড় রেখে উপর থেকে ঠান্ডা পানি ঢালুন, যাতে দাগ কাপড়ে বসে না থেকে নিচের কাপড়ে চলে যায়। এরপর ভিনেগার-পানির মিশ্রণ বা লেবুর রস দাগে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। 

১০। পুরনো দাগ: সব ধরনের পুরনো দাগ দূরীকরণের সাধারণ উপকরণ হলো সাদা ভিনেগার। একটি পাত্রে সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও পানি নিন। দাগযুক্ত অংশটি এই মিশ্রণে ৩০ মিনিট বা এক ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর কয়েক ফোঁটা লিকুইড ডিটারজেন্ট বা ডিশওয়াশিং সোপ সরাসরি দাগের ওপর দিয়ে একটি নরম টুথব্রাশের সহায়তায় আলতো করে ঘষুন। 

Comments