- Get link
- X
- Other Apps
বিশেষ পোস্ট
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| গাড়িতে ঘুমের পেছনে বিজ্ঞান আছে! |
গাড়িতে ঘুমানোর প্রবণতা রয়েছে, তাই জেগে থাকার জন্য ফোনে স্ক্রল করতেছেন। কিন্তু তারপরও গাড়ি স্টার্ট দেয়ার অল্পক্ষণেই চোখ লেগে যায়? এটা আপনার দোষ না। এটা পিউর বিজ্ঞান।
এই বিষয়টা নিয়ে মানুষের কিউরিসিটি অনেক। তাহলে চলুন গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ার কারণগুলি জেনে নিই, যেখানে বিজ্ঞানের খেলাও রয়েছে।
১। মোশন ইনডিউসড স্লিপ (দোলানির ঘুম)
ছোটবেলায় মা কোলে নিয়ে দোল দিলে ঘুম আসতো না? গাড়ির ভাইব্রেশন ঠিক ওই কাজটাই করে।
কিভাবে?
আমাদের কানের ভিতরে "ভেস্টিবুলার সিস্টেম" আছে। এটা ব্যালেন্স + মুভমেন্ট সেন্স করে।
গাড়ির হালকা দোলানি + ইঞ্জিনের ভাইব্রেশন এই সিস্টেমে গিয়ে ব্রেইনকে সিগন্যাল দেয়: তুমি সেফ মুভমেন্টে আছো, রিল্যাক্স করো।
ফলাফল: ব্রেইন থেকে মেলাটোনিন আর সেরোটোনিন রিলিজ হয়। এই ২টা হরমোনই ঘুমের জন্য দায়ী। এজন্য বাস, ট্রেন-প্রাইভেট কার সব জায়গায় একই অবস্থা।
২। অক্সিজেন কম, কার্বন ডাই অক্সাইড বেশি
বিশেষ করে এসি বাস আর সিএনজিতে। এসি বাসে জানালা বন্ধ + ৫-৬ জন মানুষ + এসি। মানুষ শ্বাস নিলে অক্সিজেন গ্রহণ করে আর কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ে।
১৫-২০ মিনিটে গাড়ির ভিতরের অক্সিজেন ২১% থেকে ১৭-১৮% এ নেমে যায়। ব্রেইন অক্সিজেন কম পেলে সাথে সাথে আলসেমি মোড-এ চলে যায়। মাথা ভার, চোখে ঘুম। এজন্যই দেখবেন, হাইওয়েতে জানালা খুললেই ঘুম কেটে যায়।
৩। ব্রেইনের 'কোনো কাজ নেই' অ্যালার্ম
ড্রাইভারের ব্রেইন ১০০% ব্যস্ত। রাস্তা, গিয়ার, ব্রেক, হর্ন। কিন্তু যাত্রীর ব্রেইন? একদম ফ্রি।
ব্রেইন ফ্রি থাকলে সে 'এনার্জি সেভিং মোড' অন করে দেয়। সাইকোলজিতে একে বলে- Monotony and Understimulation.
একই দৃশ্য, একই সাউন্ড, নড়াচড়া নেই। ব্রেইন ভাবে: "কাজ নাই? ওকে ঘুমাই"।
৪। পোস্ট মিল স্লাম্প
বেশিরভাগ মানুষ বাসা থেকে নাস্তা বা ভাত খেয়ে বের হয়। খাওয়ার পর ঝিমুনি এসে থাকে। এটাকে পোস্ট মিল স্লাম্প বলে। খাওয়ার পর রক্তের ৩০% পেটে চলে যায় হজম করার জন্য। ব্রেইন + মাসলে রক্ত কমে যায়। তার উপর গাড়ির গরম + এসি = শরীর রিল্যাক্স। এই কম্বোতে অনেকেরই ঘুম চলে আসে। সাইন্স এটাকে বলে- Postprandial Somnolence (খাওয়ার পর ঘুম ঘুম ভাব)।
৫। হোয়াইট নয়েজ ইফেক্ট
ইঞ্জিনের গোঁ গোঁ শব্দ, টায়ারের শব্দ, বাতাসের শব্দ- এই একটানা শব্দকে বলে হোয়াইট নয়েজ। বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর মেশিনেও এই শব্দ ব্যবহার করা হয়। কারণ এটা ব্রেইনকে শান্ত করে। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমিয়ে দেয়।
৬। সার্কাডিয়ান রিদম + ট্রাভেল ফ্যাটিগ
সকাল ৭-৯টা বা রাত ১০টার পর গাড়িতে উঠলে ঘুম বেশি আসে। কারণ তখন এমনিতেই আমাদের বডি ক্লক ঘুম চায়। তার সাথে জ্যাম, গরম, মানসিক টেনশন যোগ হলে ট্রাভেল ফ্যাটিগ হয়। শরীর এমনিতেই ক্লান্ত।
কারা বেশি ঘুমায়
১। বয়স্ক মানুষ: তাদের মেলাটোনিন বেশি সেনসিটিভ।
২। ডায়াবেটিস রোগী: খাওয়ার পর সুগার আপ-ডাউন হলে ঘুম আসে।
৩। যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে: অক্সিজেনের অভাবে রাতে বারবার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্রেইন প্যানিক করে যেন জেগে শ্বাস নিতে পারেন। এটা ৩০-৪০০ বার হতে পারে। রাতে ভালো ঘুম হয় না বলে দিনে ঘুম পায়।
৪। যারা রাতে কম ঘুমায়: ঘুমের ঋণ গাড়িতে শোধ করে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
কেবল গাড়িতে না, অফিসে বসেও ঘুম আসলে ও ক্লান্ত লাগলে এটা Narcolepsy বা Sleep Apnea এর লক্ষণ হতে পারে। রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকলেও একটুতেই ঘুম আসতে পারে ও দুর্বল লাগতে পারে। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে ভুলবেন না।
Disclaimer: এখানে প্রদত্ত তথ্য কেবল সচেতনতার জন্য, চিকিৎসা নয়। কোনো সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Comments
Post a Comment