- Get link
- X
- Other Apps
বিশেষ পোস্ট
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| অ্যালোভেরার জেল একজিমা জনিত চুলকানি উপশম করে |
একজিমা হলো একটি সাধারণ প্রদাহজনিত সমস্যা। এতে ত্বক শুষ্ক, লালচে, খসখসে ও চুলকানিযুক্ত হয়ে ওঠে। কারো কারো ক্ষেত্রে ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা পানি জমা হতে পারে। দীর্ঘদিনের একজিমায় ত্বক মোটা ও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। শুষ্ক ত্বক, অ্যালার্জি প্রবণতা ও রোগপ্রতিরোধ তন্ত্রের অতি প্রতিক্রিয়া- এই বিষয়গুলি মূলত একজিমার পেছনে কাজ করে। পরিবেশগত ও খাদ্যজনিত উপাদান এই অবস্থাকে আরো খারাপ করে তোলে। একজিমা পুরোপুরি সারানো যায় না। এটি ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা মাঝেমধ্যে কমে যায় এবং পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিবেশ বা উদ্দীপক পেলে আবারও বেড়ে যায়।
সঠিক চিকিৎসা, ত্বকের যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে একজিমা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া অভ্যাস একজিমা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এখানে একজিমা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে এমন কিছু কার্যকরী ঘরোয়া উপায় উল্লেখ করা হলো।
১। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন: একজিমা নিয়ন্ত্রণে ত্বক আর্দ্র রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গোসলের পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো। সাধারণত ঘন ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট খুব শুষ্ক ত্বকের জন্য বেশি উপকারী। পেট্রোলিয়াম জেলিও ব্যবহার করতে পারেন। সুগন্ধি ও অ্যালকোহলযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনে কয়েকবার প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, বিশেষত হাত ধোয়া বা গোসলের পর।
২। কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন: অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে শুষ্কতা বাড়িয়ে দেয়। তাই গোসলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। গোসলের সময় ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখুন। কড়া সাবানের বদলে মৃদু, সুগন্ধিমুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করুন। গোসলের পানিতে সামান্য কলয়েডাল ওটমিল মেশালে চুলকানি উপশম ও ত্বক নরম হতে পারে।
৩। অ্যালোভেরা জেল লাগান: অ্যালোভেরায় প্রদাহনাশক ও শীতলকারক গুণ রয়েছে। এটি ত্বককে ঠান্ডা রাখে এবং লালচে ভাব ও চুলকানি কমায়। তাজা অ্যালোভেরা জেল আক্রান্ত স্থানে হালকাভাবে লাগিয়ে রাখুন। ব্যবহারের আগে অবশ্যই অল্প জায়গায় (যেমন- হাতের কনুইয়ের ভেতরের অংশে) প্যাচ টেস্ট করে নিন, কারণ এটি কারো কারো ত্বকে অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন সৃষ্টি করতে পারে।
৪। আরামদায়ক পোশাক পরুন: কাপড়ের ঘর্ষণ ও ঘাম একজিমার প্রকোপ বাড়াতে পারে, বিশেষ করে আঁটসাঁট ও রুক্ষ পোশাক। ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন, যা ত্বককে শ্বাস নিতে দেয়। উল বা সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি ত্বকে ঘষা লেগে চুলকানি বাড়তে পারে। নতুন পোশাক পরার পূর্বে ধুয়ে নেয়া ভালো, এতে রাসায়নিক থাকলে তা দূর হবে। কড়া ডিটারজেন্ট বা ফ্যাব্রিক সফটেনার এড়িয়ে সুগন্ধিমুক্ত, মৃদু ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন। কারো কারো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘাম চুলকানি বাড়াতে পারে। তাই ঘেমে গেলে দ্রুত পোশাক পাল্টে ফেলা ভালো।
৫। নখ ছোট রাখুন: ঘন ঘন চুলকালে ত্বকের প্রতিরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখুন। চুলকানি অনুভব করলে সরাসরি চুলকানোর বদলে ঠান্ডা সেঁক দিন বা ময়েশ্চারাইজার লাগান। রাতে ঘুমানোর সময় সুতির পাতলা গ্লাভস পরা যেতে পারে, যাতে ঘুমের সময় অজান্তে চুলকানো এড়ানো যায়।
৬। পর্যাপ্ত পানি পান করুন: পানি শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন (বর্জ্য পদার্থ) প্রস্রাব ও ঘামের মাধ্যমে বের করে দেয়। শরীরে টক্সিন জমা হলে তা অনেক সময় ত্বকের মাধ্যমে প্রকাশের চেষ্টা করে, যা একজিমার প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে। একজিমা আক্রান্তদের ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবচ দুর্বল থাকে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে এই সুরক্ষা কবচ আরো ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে বাইরে থেকে ধুলোবালি ও জীবাণু সহজেই ত্বকে প্রবেশ করে চুলকানি বাড়ায়। তাই একজিমা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত (৮ থেকে ১২ গ্লাস) পানি পান করতে হবে। গরমকালে আরো ২ গ্লাস পানি বাড়িয়ে নিন।
৭। ত্বক সহায়ক খাবার খান: একজিমা নিয়ন্ত্রণে প্রদাহনাশক খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা এবং অ্যালার্জি ট্রিগার করে এমন খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের শুষ্কতা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যেমন- সামুদ্রিক মাছ, তিসির বীজ ও আখরোট। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে টক দই ও অন্যান্য প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে একজিমার প্রকোপ কমায়। এছাড়া রঙিন শাকসবজি ও ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড এবং ব্যক্তিগতভাবে অ্যালার্জি তৈরি করে এমন খাবার এড়িয়ে চললে একজিমা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়।
৮। মানসিক চাপ কমান: মানসিক চাপ শরীরে প্রদাহ সৃষ্টিকারী হরমোন বাড়িয়ে একজিমার চুলকানি ও ক্ষত তীব্র করে, যা পরবর্তীতে মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে একটি দুষ্টচক্র তৈরি করে। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন ধ্যান, হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমাতে হবে। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস (Deep Breathing), ২০-৩০ মিনিট হালকা হাঁটাচলা বা যোগব্যায়াম এবং ৭ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
৯। ঘরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করুন: ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হলে হিউমিডিফাইয়ার ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। ঘরের আর্দ্রতা ৪০-৫০% এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। নিয়মিত জানালা খুলে ঘরে তাজা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। বিছানার চাদর ও পর্দা নিয়মিত গরম পানিতে ধুয়ে ডাস্ট মাইট ও ছত্রাক মুক্ত রাখুন। অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা এড়িয়ে চলুন, যেন শরীর অতিরিক্ত ঘেমে না যায় বা ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক না হয়।
১০। ট্রিগার শনাক্ত করুন: কারো কারো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু খাবার বা পরিবেশগত উপাদান একজিমার প্রকোপ বাড়াতে পারে। তবে এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়- সবার ক্ষেত্রে একই ট্রিগার প্রযোজ্য নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি ডায়েরিতে খাদ্যাভ্যাস ও ত্বকের অবস্থা লিখে রাখলে নিজের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আছে কিনা বোঝা যেতে পারে। নিজে থেকে কোনো খাবার বাদ দেয়ার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন, কারণ প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। ধুলোবালি, নির্দিষ্ট সাবান-শ্যাম্পু, ঘাম বা মানসিক চাপও অনেকের ক্ষেত্রে একজিমার ট্রিগার হতে পারে। এর বাইরেও ট্রিগার থাকতে পারে। সম্ভাব্য ট্রিগার ডায়েরিতে লিখে রাখুন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া জরুরি-
> ঘরোয়া যত্নে কয়েক সপ্তাহেও উন্নতি না হলে
> আক্রান্ত স্থানে পুঁজ, রক্তক্ষরণ বা তীব্র ব্যথা হলে
> একজিমা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়লে
> জ্বরসহ ত্বকের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে
> ঘুম বা প্রাত্যহিক কাজে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটলে।
শেষ কথা
একজিমা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা না গেলেও নিয়মিত ত্বকের যত্ন, উপযুক্ত পোশাক, চুলকানি নিয়ন্ত্রণ, ট্রিগার শনাক্তকরণ ও মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রতিটি মানুষের ত্বক আলাদা। তাই কোন পদ্ধতি কতটা কার্যকর তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ঘরোয়া যত্নের পাশাপাশি চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই একজিমা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পথ।
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment