বিশেষ পোস্ট

ঘরে বসে ব্রণ সারানোর ১০ উপায়

broner karon o dur korar tips bangla
নিম ব্রণের যম

মুখে ব্রণ হওয়া এখন শুধু টিনএজারদের সমস্যা না। স্ট্রেস, অনিয়মিত ঘুম, ফাস্টফুড আর অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে ২০-৩০ বছর বয়সেও অনেকের ব্রণের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, ব্রণ ভালো হয়ে গেলেও তার কালো দাগ থেকে যায়। 

ভালো খবর হলো, সঠিক পরিচর্যা ও ঘরোয়া উপায় অবলম্বনে অধিকাংশ ব্রণ ঘরেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো ব্রণ কেন হয়, কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে দূর করবেন এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি।

ব্রণের পাঁচ কারণ

ব্রণ হওয়ার পিছনে একটা না, অনেকগুলো কারণ কাজ করে। কারণ না জেনে চিকিৎসা করলে সুফল পাওয়া যায় না। এখানে ব্রণ হওয়ার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হলো।

১। হরমোনের পরিবর্তন: বয়ঃসন্ধি, পিরিয়ড বা স্ট্রেসের সময় শরীরে এন্ড্রোজেন হরমোন বেড়ে যায়। এতে ত্বকের তেল গ্রন্থি বেশি তেল তৈরি করে এবং লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ হয়।

২। তৈলাক্ত ত্বক ও ময়লা: যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের লোমকূপে সহজেই ধুলা-ময়লা জমে ব্রণ হয়। মেকআপ ঠিকমতো না তুললেও একই সমস্যা হয়।

৩। ব্যাকটেরিয়া: কাটিব্যাকটেরিয়াম অ্যাকনেস নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া লোমকূপে জমলে ত্বকে প্রদাহ হয় এবং লাল, ব্যথাযুক্ত ব্রণ তৈরি হয়।

৪। খাবার: অতিরিক্ত চিনি, দুধ, ফাস্টফুড ও তেল-মশলা যুক্ত খাবার খেলে অনেকের ব্রণ বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, হাই গ্লাইসেমিক খাবার সরাসরি ব্রণ বাড়িয়ে দেয়।

৫। স্ক্রিন টাইম: মোবাইল-ল্যাপটপের ব্লু লাইট ও স্ক্রিনের ব্যাকটেরিয়া সরাসরি গালে লাগলে পোরস বন্ধ হয়ে ব্রণ হতে পারে। যারা দিনে ৬-৮ ঘন্টা স্ক্রিনে থাকেন তাদের এই সমস্যা বেশি।

মনে রাখবেন: ব্রণ হলে খোঁটা বা ফোটানো যাবে না। এতে ইনফেকশন হয়ে স্থায়ী দাগ হয়ে যেতে পারে।

ব্রণ দূরীকরণের ঘরোয়া উপায়

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে এই ঘরোয়া উপায়গুলো দুই সপ্তাহ ট্রাই করে দেখতে পারেন। উপকরণ সব ঘরেই পাবেন।

১। বরফ: লাল, ফোলা ব্রণের উপর ২-৩ মিনিট বরফ ধরুন। এতে প্রদাহ ও ব্যথা কমবে। দিনে দুই বার করুন।

২। মধু ও দারুচিনির পেস্ট: দুই চা চামচ মধু + এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে ব্রণের উপর ১০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মধু ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

৩। নিমপাতা: ১০-১২টা নিমপাতা বেটে পেস্ট করে ১৫ মিনিট মুখে লাগান। নিম প্রাকৃতিক এন্টিসেপটিক। সপ্তাহে তিন দিন করুন।

৪। অ্যালোভেরা জেল: রাতে ঘুমানোর আগে টাটকা অ্যালোভেরা জেল ব্রণের উপর লাগিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক ঠান্ডা রাখে ও দাগ হালকা করে।

৫। গ্রিন টি: এক কাপ গ্রিন টি বানিয়ে ঠান্ডা করে তুলা দিয়ে মুখ মুছুন। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তেল কমায়।

৬। লেবুর রস: এক চা চামচ লেবুর রস + এক চা চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে শুধু ব্রণের উপর লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সংবেদনশীল ত্বকে না দেয়াই ভালো।

৭। টুথপেস্ট: শুধু সাদা টুথপেস্ট একটু নিয়ে ব্রণের উপর সারারাত রাখুন। সকালে ধুয়ে ফেলুন। এক রাতেই সাইজ ছোট হয়।

৮। বেকিং সোডা স্ক্রাব: এক চা চামচ বেকিং সোডা + পানি দিয়ে পেস্ট বানিয়ে হালকা করে এক মিনিট স্ক্রাব করুন। সপ্তাহে এক বারের বেশি না।

৯। পানি বেশি খান: দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি ত্বক থেকে টক্সিন বের করে দেয়। এটা সবচেয়ে আন্ডাররেটেড ট্রিটমেন্ট।

১০। দিনে দুইবার মুখ ধোয়া: দিনে দুই বারের বেশি মুখ ধুবেন না। হালকা ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। বেশি ধুলে ত্বক আরও তেল তৈরি করে।

সতর্কতা: একসাথে সবগুলো ট্রাই করবেন না। এক সপ্তাহে ২-৩টা ট্রাই করুন। জ্বালাপোড়া হলে সাথে সাথে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণের দাগ দূরীকরণের উপায়

ব্রণ চলে গেলেও দাগ থেকে যায়। দাগের জন্য ভিটামিন সি সিরাম সকালে ব্যবহার করুন। এটি দাগ হালকা করে। রোদে গেলে SPF 50 সানস্ক্রিন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। না হলে দাগ আরও কালো হবে। এরপরও দাগ থেকে গেলে ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

ব্রণ কমাতে এই ৪টা খাবার কম খাবেন-

- দুধ ও দুধের তৈরি খাবার,

- সাদা চিনি ও মিষ্টি,

- ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া,

- অতিরিক্ত কফি।

যখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

১।  ঘরোয়া উপায় ৬-৮ সপ্তাহেও কাজ না হলে,

২।  ব্রণ থেকে পুঁজ বের হলে বা খুব ব্যথা হলে,

৩।  মুখে কালো দাগ হয়ে যাচ্ছে মনে হলে,

৪।  পিঠে, বুকে ব্রণ ছড়িয়ে পড়লে।

শেষ কথা

ব্রণ নিরাময় ধৈর্যের খেলা। এক সপ্তাহে রেজাল্ট না পেলে হতাশ হবেন না। ত্বকের ধরন বুঝে পরিচর্যা করুন। আর মনে রাখবেন, এটি কোনো চিকিৎসা পরামর্শ না। গুরুতর সমস্যা হলে অবশ্যই একজন ডার্মাটোলজিস্টের সাথে কথা বলুন।

Comments