- Get link
- X
- Other Apps
বিশেষ পোস্ট
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| আদা চা |
মাথাব্যথা এমন একটি সমস্যা যা ছোট-বড় সবাইকেই ভোগায়। কাজের চাপ, ঘুমের অভাব, দুশ্চিন্তা, পানিশূন্যতা বা চোখের সমস্যার কারণে হুট করেই মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।
অনেকেই অল্পতেই পেইনকিলার খেয়ে ফেলেন। কিন্তু বারবার ওষুধ খাওয়া শরীরের জন্য ভালো না। ভালো খবর হলো, বেশিরভাগ সাধারণ মাথাব্যথা ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়েই কমানো সম্ভব।
মাথাব্যথার কারণ
মাথাব্যথা হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বেশিরভাগ সময় এটি সাময়িক এবং ঘরোয়া উপায়েই ভালো হয়ে যায়। তবে কারণ না জেনে শুধু ওষুধ খেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না।
প্রথমত, জীবনযাপনে ত্রুটির কারণে মাথাব্যথা হয়। আজকালকার ব্যস্ত জীবনে ঘুমের অভাব সবচেয়ে বড় কারণ। রাতে ৬ ঘন্টার কম ঘুমালে বা অনিয়মিত ঘুমালে মাথাব্যথা হবেই। এছাড়া অতিরিক্ত কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ সময় ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাথাব্যথা হয়। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলেও মাথা প্রচন্ড ব্যথা করে।
দ্বিতীয়ত, খাবার ও শারীরিক কারণ। অনেক সময় ঠিকমতো খাবার না খেলে বা দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকলে মাথাব্যথা শুরু হয়। আবার অতিরিক্ত চা, কফি, চকলেট, পনির বা প্রসেসড ফুডস খেলেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষ করে মাসিকের সময় মাথাব্যথা খুব কমন।
তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য সমস্যাও মাথাব্যথায় ভোগাতে পারে। সাইনাসের সমস্যা থাকলে কপাল ও গালের হাড়ে ব্যথা হয়। চোখের পাওয়ার কম থাকলে বা চশমার পাওয়ার ঠিক না থাকলে সারাদিন মাথা ধরে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ, সর্দি-জ্বর এবং ঘাড়ের মাংসপেশিতে টান লাগলেও মাথাব্যথা হতে পারে।
মাথাব্যথার ঘরোয়া সমাধান
মাথাব্যথা হলে শুধু পেইনকিলার না খেয়ে আগে কারণটা বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ জানলে ৮০% ক্ষেত্রেই ঘরোয়া উপায়ে উপশম সম্ভব। এখানে মাথাব্যথার ছয়টি ঘরোয়া টোটকা দেয়া হলো।
আদা চা + গরম সেঁক: আদাতে প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে। এটা টেনশন হেডেকের জন্য বেস্ট। এক কাপ গরম পানিতে ৫-৬ স্লাইস আদা ৫ মিনিট ফুটান। এতে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। আর একটা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে কপালে ১০ মিনিট রাখুন। কম্পিউটারে বেশি কাজের পর মাথা ধরলে এটা ট্রাই করে দেখুন।
পুদিনার তেল: পুদিনার মেন্থল ত্বকের ঠান্ডা অনুভূতির রিসেপ্টরগুলোকে সক্রিয় করে তোলে। এই তীব্র ঠান্ডা অনুভূতি মস্তিষ্কে ব্যথার সংকেত পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথার তীব্রতা কমিয়ে দেয়। কপাল, দুই কানের পাশে ও ঘাড়ে পুদিনার তেল মালিশ করুন। অথবা ৩-৪টা পুদিনা পাতা হাতে ডলেও লাগাতে পারেন। ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকুন।
পানি + ঘুম: অধিকাংশ মাথাব্যথার কারণ ডিহাইড্রেশন আর ঘুমের অভাব। শরীরে ২% পানি কমে গেলেও মাথাব্যথা শুরু হয়। অন্যদিকে ঘুম কম হলে মস্তিষ্ক জমে থাকা ক্ষতিকারক বর্জ্য পরিষ্কার করতে পারে না, যার ফলে প্রদাহ হয়। প্রথমে দুই গ্লাস নরমাল পানি খান। তারপর রুম অন্ধকার করে ২০ মিনিট বিশ্রাম নিন। ফোন দূরে রাখুন।
দারুচিনির পেস্ট: সাইনাসের কারণে মাথাব্যথা হলে দারুচিনি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। উইলি অনলাইন লাইব্রেরির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে- দারুচিনি মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপাদান (যেমন IL-6 এবং Nitric Oxide) কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে, যা মাইগ্রেন ও সাধারণ মাথাব্যথা কমায়। দুই চামচ দারুচিনি গুঁড়াতে অল্প পানি মিশিয়ে পেস্ট বানান। কপালে ৩০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ঠান্ডা সেঁক: মাইগ্রেনের ব্যথা দ্রুত কমাতে ঠান্ডা সেঁক অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপায়। ঠান্ডা তাপমাত্রা মাথার রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে, রক্তসঞ্চালন কমায় এবং ওই অংশের স্নায়ুগুলোকে সাময়িকভাবে অবশ করে দেয়, যার ফলে ব্যথার অনুভূতি দ্রুত কমে আসে। একটা আইস প্যাক বা পাতলা তোয়ালেতে বরফ পেঁচিয়ে কপালে ও ঘাড়ের পিছনে ১৫ মিনিট রাখুন।
লবঙ্গের ঘ্রাণ: লবঙ্গের ইউজেনল ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে, যা খুব দ্রুত মাথার তীব্র যন্ত্রণা ও মাইগ্রেনের ব্যথা উপশম করতে পারে। কয়েকটি লবঙ্গ সামান্য থেঁতো করে একটি পরিষ্কার কাপড়ে বা রুমালে বেঁধে পুঁটলি তৈরি করুন। এবার এই পুঁটলি কিছুক্ষণ পর পর নাকের কাছে নিয়ে গভীরভাবে ঘ্রাণ শুঁকুন।
যখন হাসপাতালে যাবেন
যদি মাথাব্যথার সাথে নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দেয়, তবে কোনো অবহেলা না করে দ্রুত জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।
> হঠাৎ জীবনে কখনো না হওয়া তীব্র বজ্রপাতের মতো ব্যথা। মনে হবে মাথার ভেতর বাজ পড়েছে। এটাকে থান্ডারক্ল্যাপ হেডেক বলে। এটা মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা রক্তনালী ফেটে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
> মাথাব্যথার সাথে তীব্র জ্বর, কাঁপুনি, বমি বমি ভাব, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা ও ঘাড় নাড়াতে কষ্ট হওয়া। এটা মস্তিষ্কের সংক্রমণ মেনিনজাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।
> কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের একপাশ অবশ হওয়া বা দুর্বল লাগা, ভারসাম্যহীনতা এবং মুখ বেঁকে যাওয়া। এটা স্ট্রোকের লক্ষণ।
> হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া অথবা একটি জিনিস দুটো দেখা (ডাবল ভিশন)। এটা মস্তিষ্কের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ এবং ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।
Disclaimer: এখানে প্রদত্ত তথ্য কেবল সাধারণ শিক্ষা ও সচেতনতার জন্য। এখানে উল্লেখিত ঘরোয়া উপায়গুলো সাধারণ মাথাব্যথার জন্য প্রযোজ্য। এটি কোনোভাবেই ডাক্তারের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো চিকিৎসা নেয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment